ভারতীয়দের নেপাল ভ্রমণ: ৮ দিনে কাঠমান্ডু, পোখরা আর চিতওয়ান
By Ganesh ·
কলকাতা থেকে নেপালের ৮ দিনের রুট: কাঠমান্ডু আর ভক্তপুর, পোখরায় তিন রাত, চিতওয়ানে দুই রাত জঙ্গল সাফারির জন্য। পরিচয়পত্রের নিয়ম, ভারতীয় টাকা, প্লেন না স্থলসীমান্ত, আর মোটামুটি খরচ।
ভারতীয়দের জন্য নেপাল সবচেয়ে সহজ বিদেশভ্রমণগুলোর একটা: ভিসা লাগে না, ভোটার কার্ড থাকলে পাসপোর্টও না, আর অনেক জায়গায় ভারতীয় টাকা চলে। আট দিনে চেনা রুটটা হয়ে যায়: কাঠমান্ডুতে দুই রাত, ভক্তপুর বা নাগরকোটে এক, পোখরায় তিন, চিতওয়ানে দুই।
কলকাতা থেকে যাওয়া
কলকাতা থেকে কাঠমান্ডু সরাসরি ফ্লাইট প্রায় দেড় ঘণ্টা। স্থলপথে শিলিগুড়ি হয়ে পানিট্যাঙ্কি-কাকরভিটা সীমান্ত সবচেয়ে কাছে; ওপার থেকে কাঠমান্ডু বাসে বা ছোট ফ্লাইটে (ভদ্রপুর থেকে)। বাসে দিনভর লেগে যায়, তাই আট দিনের ছুটিতে যাওয়ার পথে প্লেনই ভালো, ফেরার পথে চিতওয়ান থেকে স্থলপথে বীরগঞ্জ-রক্সৌল হয়েও ফেরা যায়।
রুট
| দিন | কোথায় | রাত |
|---|---|---|
| ১ | পৌঁছনো, থামেল, কাঠমান্ডু দরবার স্কোয়ার | কাঠমান্ডু |
| ২ | পশুপতিনাথ, বৌদ্ধনাথ, স্বয়ম্ভূনাথ | কাঠমান্ডু |
| ৩ | সকালে পাটন, বিকেলে ভক্তপুর | ভক্তপুর বা নাগরকোট |
| ৪ | পোখরা (২৫ মিনিটের ফ্লাইট বা ৭ ঘণ্টার রাস্তা) | পোখরা |
| ৫ | সারাংকোটে সূর্যোদয়, ফেওয়া লেক, শান্তি স্তূপ | পোখরা |
| ৬ | প্যারাগ্লাইডিং বা অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প পর্যন্ত হাঁটা | পোখরা |
| ৭ | চিতওয়ান, সন্ধ্যায় রাপ্তি নদীর ধারে | সৌরাহা |
| ৮ | জিপ বা ডিঙি সাফারি, তারপর ফেরা | বাড়ি |
দিন ধরে
প্রথম দু'দিন, কাঠমান্ডু
সুবিধের জন্য থামেলে থাকুন, নিরিবিলি চাইলে বৌদ্ধনাথের কাছে। দরবার স্কোয়ারে ২০১৫-র ভূমিকম্পের দাগ এখনও আছে, তবে মেরামতির কাজ দেখার মতো। পশুপতিনাথে সন্ধ্যার আরতির সময় সবচেয়ে ভিড়। বিকেলে সিঁড়ি বেয়ে স্বয়ম্ভূনাথ, ওপর থেকে পুরো উপত্যকা দেখা যায়।
তৃতীয় দিন, পাটন আর ভক্তপুর
পাটনের দরবার স্কোয়ার আর সংগ্রহশালা নেওয়ারি শিল্প বোঝার সেরা শুরু। ৪৫ মিনিট দূরে ভক্তপুর তিনটে পুরনো শহরের মধ্যে সবচেয়ে অক্ষত: ইটের গলি, কুমোরদের চত্বর আর জুজু ধৌ, এখানকার মিষ্টি দই। আকাশ পরিষ্কার থাকলে হিমালয়ের সূর্যোদয়ের জন্য নাগরকোটে রাত কাটান।
চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ দিন, পোখরা
পোখরা ধীর আর সবুজ। ভোরের আগে সারাংকোটে উঠে অন্নপূর্ণা আর মাছাপুছারের দৃশ্য, ফেওয়া লেকে নৌকা, হেঁটে শান্তি স্তূপ। সারাংকোট থেকে টেন্ডেম প্যারাগ্লাইডিং পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা জায়গাগুলোর একটা। ট্রেকিংয়ের হালকা স্বাদ চাইলে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প আর ধামপুসে এক রাতের হাঁটা।
সপ্তম আর অষ্টম দিন, চিতওয়ান
পোখরা থেকে রাস্তায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। সৌরাহায় থাকুন। একশৃঙ্গ গন্ডার দেখার সবচেয়ে ভালো সুযোগ সকালের জিপ সাফারিতে, পাখি আর কুমিরের জন্য কাঠের ডিঙি।
পরিচয়পত্র, টাকা আর সীমান্ত
- ভারতীয়দের বৈধ পাসপোর্ট বা ভোটার কার্ড, এর যেকোনো একটা লাগবে। আধারসহ অন্য কাগজ ফ্লাইটের জন্য একা যথেষ্ট না-ও হতে পারে।
- ₹১০০ আর তার চেয়ে ছোট নোট বেশিরভাগ জায়গায় চলে। ₹২০০ আর ₹৫০০ নোটের নিয়ম বিভিন্ন সময়ে বদলেছে, নিয়ে যাওয়ার আগে বর্তমান সীমা দেখে নিন। বাস আর ছোট দোকানে নেপালি টাকা লাগে।
- ভারতের UPI অ্যাপ এখন নেপালের অনেক দোকান আর হোটেলে চলে। টাকা দেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন।
মাথাপিছু মোটামুটি খরচ
| খাত | কম বাজেট (₹, আনুমানিক) | মাঝারি (₹, আনুমানিক) |
|---|---|---|
| কলকাতা-কাঠমান্ডু যাওয়া-আসা (বা সীমান্ত পর্যন্ত ট্রেন-বাস) | 3,000-14,000 | 14,000-22,000 |
| নেপালের ভেতরে যাতায়াত | 3,000-5,000 | 8,000-12,000 |
| থাকা, দুজন এক ঘরে, ৭ রাত | 6,000-10,000 | 15,000-30,000 |
| প্রবেশমূল্য আর সাফারি | 4,000-6,000 | 6,000-9,000 |
| প্যারাগ্লাইডিং (ইচ্ছে হলে) | 0-7,000 | 6,000-8,000 |
| খাওয়া | 4,000-6,000 | 6,000-10,000 |
| মোট | 20,000-48,000 | 55,000-91,000 |
কখন যাবেন
অক্টোবর আর নভেম্বরে পাহাড় সবচেয়ে পরিষ্কার, আর দশাইন-তিহারের উৎসব। পুজোর ছুটিতে যাওয়ার জন্য তাই দারুণ সময়, তবে টিকিট আগে কাটুন। মার্চ-এপ্রিলে রডোডেনড্রন ফোটে, যদিও কুয়াশায় চূড়া ঢাকা পড়তে পারে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষা: সবুজ আর সস্তা, কিন্তু মেঘ, জোঁক আর পোখরার রাস্তায় ধস।
লোকে যা জিজ্ঞেস করেন
ট্রেক যোগ করা যায়?
হ্যাঁ। পোখরা থেকে পুন হিল চার-পাঁচ দিনের, মোটামুটি ফিট হলে পারবেন। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের জন্য প্রায় দু'সপ্তাহ আর লাইসেন্সধারী গাইড লাগে।
ভারতীয় সিম চলবে?
আন্তর্জাতিক রোমিং চলে, কিন্তু খরচ বেশি। Ncell বা নেপাল টেলিকমের লোকাল সিম সস্তা; পাসপোর্ট সাইজের ছবি আর পরিচয়পত্র নিয়ে যান।
ছবি: Boudhanath stupa, Kathmandu 01, Bernard Gagnon, CC BY-SA 4.0 (Wikimedia Commons)
Read in: Nepal trip guide for Indians: 8 days in Kathmandu, Pokhara and Chitwan · भारतीयों के लिए नेपाल यात्रा: 8 दिन में काठमांडू, पोखरा और चितवन