মেঘালয় ৬ দিনে: শিলং, সোহরা, জীবন্ত শিকড়ের সেতু আর ডাউকি
By Ganesh ·
কলকাতা থেকে গুয়াহাটি হয়ে মেঘালয়ের ৬ দিনের প্ল্যান: শিলংয়ে ২ রাত, সোহরায় (চেরাপুঞ্জি) ২ রাত ডাবল-ডেকার রুট ব্রিজ ট্রেকসহ, মাওলিননং আর ডাউকির স্বচ্ছ নদী। কোন মাসে যাবেন, যাতায়াত আর খরচ।
কলকাতা থেকে মেঘালয় যাওয়ার সহজ রাস্তা গুয়াহাটি হয়ে: প্লেনে এক ঘণ্টার কিছু বেশি, বা সরায়েঘাট এক্সপ্রেসের মতো রাতের ট্রেন। গুয়াহাটি থেকে শিলং গাড়িতে প্রায় তিন ঘণ্টা। ছ'দিনে শিলং, সোহরার (চেরাপুঞ্জি) ঝরনা আর খাদ, নংরিয়াতের ডাবল-ডেকার শিকড়ের সেতু, মাওলিননং গ্রাম আর ডাউকির নদী তাড়াহুড়ো ছাড়াই দেখা যায়। স্থানীয় ড্রাইভারসহ গাড়ি নিন; রাস্তা ভালো কিন্তু পাহাড়ি, আর এসব জায়গার মধ্যে বাস কম।
প্ল্যান
| দিন | কোথায় | রাত |
|---|---|---|
| ১ | গুয়াহাটি থেকে শিলং, পথে উমিয়াম লেক | শিলং |
| ২ | লাইটলুম, ডন বসকো মিউজিয়াম, পুলিশ বাজার | শিলং |
| ৩ | সোহরা: নোহকালিকাই, মওসমাই গুহা, সেভেন সিস্টার্স | সোহরা |
| ৪ | নংরিয়াত ট্রেক, ডাবল-ডেকার রুট ব্রিজ | সোহরা |
| ৫ | মাওলিননং আর ডাউকি | শিলং বা শনংপদেং |
| ৬ | গুয়াহাটি ফেরা | বাড়ি |
দিন ধরে
প্রথম দিন, শিলং
গুয়াহাটির জ্যাম এড়াতে বেলা বাড়ার আগে বেরোন। উমিয়াম লেকে চা খেতে থামুন। শিলংয়ে সারা বছর ঠান্ডা, এপ্রিলেও জ্যাকেট রাখুন। সন্ধ্যায় পুলিশ বাজার। খাসি খাবারে জাদোহ (মাংস দিয়ে রান্না ভাত) বিখ্যাত। শিলংয়ে পুরনো বাঙালি পাড়াও আছে, বাংলা খাবার আর কথা দুটোই সহজে মেলে।
দ্বিতীয় দিন, শিলংয়ের আশেপাশে
সকালে লাইটলুম, গভীর সবুজ খাদের দৃশ্য। শহরে ফিরে ডন বসকো মিউজিয়াম, সাত তলা জুড়ে উত্তর-পূর্বের নানা জনগোষ্ঠীর কথা, ছাদ থেকে দারুণ দৃশ্য। এলিফ্যান্ট ফলস আর শিলং পিক ছোট থামা (পিক বিমানবাহিনীর এলাকায়, পরিচয়পত্র রাখুন)।
তৃতীয় দিন, সোহরা
সোহরা প্রায় দেড় ঘণ্টা। নোহকালিকাই দেখুন, দেশের সবচেয়ে উঁচু ঝরনাগুলোর একটা, তারপর মওসমাই গুহা (ছোট, আলো আছে, কোথাও কোথাও মাথা নিচু করে যেতে হয়) আর সেভেন সিস্টার্স ঝরনা, যা বর্ষায় আর তার ঠিক পরেই ভরা থাকে। রাতে সোহরা বা টিরনা গ্রামের কাছে থাকুন, ট্রেক ওখান থেকেই শুরু।
চতুর্থ দিন, ডাবল-ডেকার রুট ব্রিজ
টিরনা থেকে নংরিয়াত গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ সিঁড়ি নামতে হয়, যেখানে গাছের শিকড়ে তৈরি দুটো সেতু একটার ওপর আরেকটা। পুরো দিন রাখুন: নামতে দু'ঘণ্টা, উঠতে আরও বেশি। জল কম থাকলে সেতুর ওপারে নীল জলের কুণ্ডে স্নান করুন। ভালো গ্রিপের জুতো, জল, আর সকাল আটটার মধ্যে শুরু।
পঞ্চম দিন, মাওলিননং আর ডাউকি
মাওলিননং পরিচ্ছন্ন গ্রাম, কাছে একটা ছোট শিকড়ের সেতু আর বাঁশের স্কাইওয়াক। তারপর বাংলাদেশ সীমান্তে ডাউকি, যেখানে শীতে উমংগট নদী এত স্বচ্ছ যে নৌকা যেন হাওয়ায় ভাসছে। রাতে শনংপদেংয়ে নদীর ধারে ক্যাম্পে থাকুন বা শিলং ফিরুন (প্রায় তিন ঘণ্টা)।
ষষ্ঠ দিন, ফেরা
ফেরার দিন শিলং থেকে সকাল সকাল বেরোন। গুয়াহাটি ঢোকার মুখে রাস্তা ধীর হতে পারে, আর ভারী বৃষ্টির পর ধসে মাঝে মাঝে রাস্তা বন্ধ হয়।
মাথাপিছু মোটামুটি খরচ
| খাত | কম বাজেট (₹, আনুমানিক) | মাঝারি (₹, আনুমানিক) |
|---|---|---|
| কলকাতা-গুয়াহাটি যাওয়া-আসা (প্লেন বা ট্রেন) | 2,500-9,000 | 8,000-14,000 |
| ড্রাইভারসহ গাড়ি, ৬ দিন (দুজনে ভাগ) | 10,000-14,000 | 12,000-16,000 |
| থাকা, দুজন এক ঘরে, ৫ রাত | 6,000-10,000 | 14,000-25,000 |
| প্রবেশমূল্য, গাইড, ডাউকির নৌকা | 1,500-2,500 | 2,500-4,000 |
| খাওয়া | 3,000-5,000 | 5,000-8,000 |
| মোট | 23,000-40,500 | 41,500-67,000 |
কখন যাবেন
অক্টোবর থেকে এপ্রিল সবচেয়ে সুবিধের। ডাউকির নদী নভেম্বর থেকে এপ্রিল সবচেয়ে স্বচ্ছ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষা: সোহরা পৃথিবীর অন্যতম বৃষ্টিবহুল জায়গা, ঝরনা অসাধারণ, কিন্তু দৃশ্য মেঘে ঢেকে যায়, ট্রেক পিছল হয়, ডাউকির জল ঘোলা।
লোকে যা জিজ্ঞেস করেন
কাজিরাঙা যোগ করা যায়?
হ্যাঁ, আরও দু'দিন লাগবে। গুয়াহাটি থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পূর্বে, পার্ক মোটামুটি নভেম্বর থেকে এপ্রিল খোলা।
রুট ব্রিজ ট্রেক কতটা কঠিন?
টেকনিক্যাল নয়, তবে খাড়া। মোটামুটি ফিট হলে পারবেন। হাঁটুর সমস্যা থাকলে মাওলিননংয়ের কাছের ছোট সেতুটা দেখুন।
নগদ টাকা লাগবে?
হ্যাঁ। গ্রামে ঢোকার ফি আর পার্কিং প্রায় সব জায়গায় নগদে, আর শিলংয়ের বাইরে নেটওয়ার্ক দুর্বল।
ছবি: Living root bridges of Nongriat village in East Khasi Hills district, Meghalaya JEG7387, PJeganathan, CC BY-SA 4.0 (Wikimedia Commons)
Read in: Meghalaya in 6 days: Shillong, Sohra, the root bridges and Dawki · मेघालय 6 दिन में: शिलांग, सोहरा, लिविंग रूट ब्रिज और डावकी